নদী শুষে নাও বনেদি শরাবের মতো। আর নাও রঙিন উপসাগর। আলস্য রঙধনু ছুঁড়ে দাও বিছিয়ে রাখা মেঘ আর বিষন্ন আকাশের মলিনতায়। চোখের তৃষ্ণা দিয়ে তোমার নিজস্ব কারাগার থেকে এই বিষাদময় কোলাহলের দুরত্ব মেপে দেখো-- অনায়াসে খুঁজে পাবে ক্রয়যোগ্য অপমান আর অশ্রুর অনুজ মানচিত্র।
এই সুরযন্ত্রের পাঁজরে কয়েকটি বোবা পান্ডুলিপি সাজিয়ে এখন ঝলসানো চিত্রকলার মতো বধির তুমি। শ্যাওলার অন্ধকারে বরং ঘ্রাণ নিয়ে দেখো-- নিশ্চিত মিলে যাবে দু-মুঠো লালচে বাতাস।
Friday, October 31, 2008
Tuesday, October 28, 2008
মাটির গন্ধ মেখে ঘুমোতে গেলাম
বহুদিন এই পথ আর কাঁদেনি তেমন। খসখসে তালুতে কন্যার অশ্রু মুছে গনগনে সূর্য খুঁজতে পথে নেমেছিল জনপদের এক নির্জন সিংহপুরুষ। এই লালমাটির দোভাষী, প্যামফ্লেট, মুমুর্ষু চিরকুট, সবই হায় বোবা হয়েছিল সেদিন। শিমুলের নির্বোধ ফুল শুকোবার আগেই সিংহলের নরম কাদায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রঙিন সংসার এঁকেছিল সিংহের সে জাতক।
ইতিহাসের নীলাভ পাতায় পাতায় সেসব নিরীহ কঙ্কাল, স্বর্ণমুদ্রা আর ষোড়শী কন্যার নরম চিঠি ডাঁই হয়ে ঘুমিয়ে আছে এখনও।
বিঘত ঘনিষ্ঠ স্বজনদের মিছিল আবারও সার বেঁধেছে সূর্যের খোঁজে। এই প্রশস্ত গণিত আর বেতারের কালে ভাঁজ করা আগ্নেয়াস্ত্রে মুগ্ধ সবাই। মোমের গন্ধ শুকিয়ে গেছে ইকারুসের। আর প্রলম্বিত ডানার তীব্র সঙ্গীতে ঢেউ উঠেছে মহাদেশের নাভিমূলে।
ওরা আসছে।
ইতিহাসের নীলাভ পাতায় পাতায় সেসব নিরীহ কঙ্কাল, স্বর্ণমুদ্রা আর ষোড়শী কন্যার নরম চিঠি ডাঁই হয়ে ঘুমিয়ে আছে এখনও।
বিঘত ঘনিষ্ঠ স্বজনদের মিছিল আবারও সার বেঁধেছে সূর্যের খোঁজে। এই প্রশস্ত গণিত আর বেতারের কালে ভাঁজ করা আগ্নেয়াস্ত্রে মুগ্ধ সবাই। মোমের গন্ধ শুকিয়ে গেছে ইকারুসের। আর প্রলম্বিত ডানার তীব্র সঙ্গীতে ঢেউ উঠেছে মহাদেশের নাভিমূলে।
ওরা আসছে।
Sunday, October 26, 2008
লাল মাটি আর শান্তিকামী যোদ্ধার দিনলিপি
মরচে বন্দুক ছিল আমাদেরও, ধুলোজমা তক্তপোষে
মাটি, বৃক্ষ আর পড়শি বদলের কালে
অসহিষ্ণু ঘোড়ার শাবক লাফিয়ে উঠেছিল সেদিন
এই লাল পাহাড় আর নরম পলিমাটির গাঁয়ে
আর অসমাপ্ত ক্যানভাস বিছিয়ে রেখে অশ্মত্থের উঠোনে
আমরা প্রতীক্ষায় ছিলাম উজ্জ্বল সবুজ রঙের
অপেক্ষায় ছিল পঞ্চাশ হাজার পিঁপড়ের জ্বলন্ত সেনাবাহিনী
রাইফেল কাঁধে ইটের শুঁড়িখানা পেরিয়ে গিয়েছিল তারা
নেপোলিয়ন আর ওয়াশিংটনের সন্ত্রস্ত বাহিনীর মতো
ভেষজ পাতার আড়ালে সেদিন মুখর করতালি ঝরেছিল
আফ্রিকার নৃত্য আর উন্মত্ত যুদ্ধবাজনার তালে
ছুটির আইল ধরে কেবলি গ'লে যাচ্ছিল আগুন
সমতট ইতিহাসের সবচে' প্রবল সে দাবানল
জ্বালিয়ে দিয়েছিল ভাড়া করা স্পার্টান নৌবহর
নৌযান পাটাতনে দগ্ধ খড়ি হয়েছিল লবণের ঘ্রাণ,
প্রশান্ত ঘুর্ণি আর প্রবাল দ্বীপের প্রশস্ত দীর্ঘশ্বাস
সমুদ্র-পুরাণের পাতায় পাতায় হতবাক দাঁড়িয়ে গিয়েছিল
উত্তর গোলার্ধের বিবস্ত্র নাবিকেরা
পদ্মার সূর্যাস্তে একদিন যে শান্তির শ্লোগান উঠেছিল
তার প্রতিধ্বনী বেজেছে রাইন আর ভলগায়
দানিয়ুব বাড়িয়েছে সমর্পিত ডানার মাস্তুল
লাল সেনাদের ভিড় থেকে শুধু তোপধ্বনি কেঁদেছিল একবার
লাল ফানুসে ভেসে ভেসে বলে গেছে সফেদ স্বর্গদূত
গ্রীক কিংবা ব্যবিলন, যা পাও দৃষ্টির নাগালে
নির্দ্বিধায় জড়িয়ে নিও বুকের গহিনে
ওরা সব এক অবিমিশ্র পূর্বপুরুষের চিত্রময় উপাখ্যান
মাটি, বৃক্ষ আর পড়শি বদলের কালে
অসহিষ্ণু ঘোড়ার শাবক লাফিয়ে উঠেছিল সেদিন
এই লাল পাহাড় আর নরম পলিমাটির গাঁয়ে
আর অসমাপ্ত ক্যানভাস বিছিয়ে রেখে অশ্মত্থের উঠোনে
আমরা প্রতীক্ষায় ছিলাম উজ্জ্বল সবুজ রঙের
অপেক্ষায় ছিল পঞ্চাশ হাজার পিঁপড়ের জ্বলন্ত সেনাবাহিনী
রাইফেল কাঁধে ইটের শুঁড়িখানা পেরিয়ে গিয়েছিল তারা
নেপোলিয়ন আর ওয়াশিংটনের সন্ত্রস্ত বাহিনীর মতো
ভেষজ পাতার আড়ালে সেদিন মুখর করতালি ঝরেছিল
আফ্রিকার নৃত্য আর উন্মত্ত যুদ্ধবাজনার তালে
ছুটির আইল ধরে কেবলি গ'লে যাচ্ছিল আগুন
সমতট ইতিহাসের সবচে' প্রবল সে দাবানল
জ্বালিয়ে দিয়েছিল ভাড়া করা স্পার্টান নৌবহর
নৌযান পাটাতনে দগ্ধ খড়ি হয়েছিল লবণের ঘ্রাণ,
প্রশান্ত ঘুর্ণি আর প্রবাল দ্বীপের প্রশস্ত দীর্ঘশ্বাস
সমুদ্র-পুরাণের পাতায় পাতায় হতবাক দাঁড়িয়ে গিয়েছিল
উত্তর গোলার্ধের বিবস্ত্র নাবিকেরা
পদ্মার সূর্যাস্তে একদিন যে শান্তির শ্লোগান উঠেছিল
তার প্রতিধ্বনী বেজেছে রাইন আর ভলগায়
দানিয়ুব বাড়িয়েছে সমর্পিত ডানার মাস্তুল
লাল সেনাদের ভিড় থেকে শুধু তোপধ্বনি কেঁদেছিল একবার
লাল ফানুসে ভেসে ভেসে বলে গেছে সফেদ স্বর্গদূত
গ্রীক কিংবা ব্যবিলন, যা পাও দৃষ্টির নাগালে
নির্দ্বিধায় জড়িয়ে নিও বুকের গহিনে
ওরা সব এক অবিমিশ্র পূর্বপুরুষের চিত্রময় উপাখ্যান
পোড়াবালির চিম্বুক
তোমার হাসিতে অন্ধ হয়ে যায় ইতিহাসের মগ্ন পাঠক
পাথুরে সিংহের আড়ালে অভিমান তোমার
গুচ্ছ গুচ্ছ ঝর্ণার মতো ভেঙে গ'লে টুকরো হয়
নীল নদের আখ্যান শরীরে জড়িয়ে পেঁচিয়ে
ইতিহাসের রঙমহল ফুঁড়ে উত্থিত হয় অবাক ভাস্কর্য
তুমি আবার হাসো, হাশিশের মাতাল উত্তাপে
আর ক্ষুব্ধ বিদ্যুতের আগুনে ঝলসে যায় চোখ
হাবশিদের নির্বাক ভিড়ে বহুদিন আমিও থমকে ছিলাম
বোবা পিরামিডের মতো, ক্রুদ্ধ বিস্ময়ে
লোবানের মেঘ ভেঙে দুর্লঙ্ঘ্য কফিন থেকে
বেরিয়ে এসেছিলে তুমি, মরুর উদ্ধত যাদুকর!
কালো মাংসের নিরেট প্রাকার
দৃষ্টির তীর্যক দাবানলে পুড়িয়ে খাক করে
তুমি হেঁটে গিয়েছিলে নীল জলের হাম্মামে
কোমরের কোটরে লুকানো উন্মাদ খঞ্জরের কসম
বিষাক্ত কর্কট, ক্যাকটাস আর যাদুময় আকাশের নিচে
এখনও যেসব রক্তকাতর যুদ্ধ হবে,
আমি তার উন্মত্ত অপেক্ষায় নির্ঘুম থাকি
কাতারে কাতারে হত্যার খেলা শেষ হ'লে
হয়তো নরম বালিতেই ঘুমিয়ে নেয়া যাবে
পাথুরে সিংহের আড়ালে অভিমান তোমার
গুচ্ছ গুচ্ছ ঝর্ণার মতো ভেঙে গ'লে টুকরো হয়
নীল নদের আখ্যান শরীরে জড়িয়ে পেঁচিয়ে
ইতিহাসের রঙমহল ফুঁড়ে উত্থিত হয় অবাক ভাস্কর্য
তুমি আবার হাসো, হাশিশের মাতাল উত্তাপে
আর ক্ষুব্ধ বিদ্যুতের আগুনে ঝলসে যায় চোখ
হাবশিদের নির্বাক ভিড়ে বহুদিন আমিও থমকে ছিলাম
বোবা পিরামিডের মতো, ক্রুদ্ধ বিস্ময়ে
লোবানের মেঘ ভেঙে দুর্লঙ্ঘ্য কফিন থেকে
বেরিয়ে এসেছিলে তুমি, মরুর উদ্ধত যাদুকর!
কালো মাংসের নিরেট প্রাকার
দৃষ্টির তীর্যক দাবানলে পুড়িয়ে খাক করে
তুমি হেঁটে গিয়েছিলে নীল জলের হাম্মামে
কোমরের কোটরে লুকানো উন্মাদ খঞ্জরের কসম
বিষাক্ত কর্কট, ক্যাকটাস আর যাদুময় আকাশের নিচে
এখনও যেসব রক্তকাতর যুদ্ধ হবে,
আমি তার উন্মত্ত অপেক্ষায় নির্ঘুম থাকি
কাতারে কাতারে হত্যার খেলা শেষ হ'লে
হয়তো নরম বালিতেই ঘুমিয়ে নেয়া যাবে
Friday, October 24, 2008
পাশাপাশি গন্ধম-আগুন
পোড়া প্রাসাদের অলিন্দে এখনও তোমার অদ্ভুত পায়ের ক্রন্দন
ক্রুদ্ধ ভঙ্গিমায় কাঁপছে কারাগার কিংবা ধোঁয়াচ্ছন্ন নরম দিন
আগুনের মাতাল গন্ধেই বারবার সাঁতার হয় নিরব গল্পের দেশে
গোল হয়ে হয়ে বাদামী অ্যাশট্রে আর দুর্বল সময়ের পাশে
যে একাকি পঙক্তি নিজস্ব অশ্রুর কথা বলে, হেসে হেসে,
সেখানে ছন্দ বাজে বজ্র আর বাতাসের মতো
এখনও তোমার ঘ্রাণ মাতাল ভীষণ, অচেনা, চকিত
গরান কাঠের বুকে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছে তামাটে কৈশোর
একগ্লাস ধোঁয়ার আকাশ অথবা ক’ফোঁটা উষ্ণ গরল
তুমি বিলিয়ে দাও বিকেলের ক্যানভাসে, নিজস্ব ক্ষিপ্রতায়
সাঁঝের বাগানে ঝরছে বিকারগ্রস্থ ফড়িংয়ের গান
বিজলীর মুখর ছায়ায় নেশার শব্দ আঁকছে গুটিকয় আর্তচিৎকার
চোখ আর বুক-পকেটে পোড়া প্রাসাদের আস্বাদ নিয়ে
হঠাৎ ঘুমিয়ে যাই পুরনো গন্ধের বুকে
বিলবোর্ড থেকে আরেকটি প্রকান্ড দিন খসিয়ে নিয়ে
মেলে দিই কষ্টের বারান্দায়, স্মৃতি ঝরে টুপটাপ
পথের ধুলিকন্যারা বাস্তুহারা পথিকের মতো থিকথিকে ঘন হয়ে
একঘেয়ে মমতায় ঘিরে ফেলে স্বপ্ন-স্বদেশ
বয়োজ্যেষ্ঠ বিভ্রম সূর্যালোকে মুগ্ধ মগ্ন হয়ে
গুটি গুটি মেঘের ছায়ায় পথে নামি আমিও আবার
ক্রুদ্ধ ভঙ্গিমায় কাঁপছে কারাগার কিংবা ধোঁয়াচ্ছন্ন নরম দিন
আগুনের মাতাল গন্ধেই বারবার সাঁতার হয় নিরব গল্পের দেশে
গোল হয়ে হয়ে বাদামী অ্যাশট্রে আর দুর্বল সময়ের পাশে
যে একাকি পঙক্তি নিজস্ব অশ্রুর কথা বলে, হেসে হেসে,
সেখানে ছন্দ বাজে বজ্র আর বাতাসের মতো
এখনও তোমার ঘ্রাণ মাতাল ভীষণ, অচেনা, চকিত
গরান কাঠের বুকে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছে তামাটে কৈশোর
একগ্লাস ধোঁয়ার আকাশ অথবা ক’ফোঁটা উষ্ণ গরল
তুমি বিলিয়ে দাও বিকেলের ক্যানভাসে, নিজস্ব ক্ষিপ্রতায়
সাঁঝের বাগানে ঝরছে বিকারগ্রস্থ ফড়িংয়ের গান
বিজলীর মুখর ছায়ায় নেশার শব্দ আঁকছে গুটিকয় আর্তচিৎকার
চোখ আর বুক-পকেটে পোড়া প্রাসাদের আস্বাদ নিয়ে
হঠাৎ ঘুমিয়ে যাই পুরনো গন্ধের বুকে
বিলবোর্ড থেকে আরেকটি প্রকান্ড দিন খসিয়ে নিয়ে
মেলে দিই কষ্টের বারান্দায়, স্মৃতি ঝরে টুপটাপ
পথের ধুলিকন্যারা বাস্তুহারা পথিকের মতো থিকথিকে ঘন হয়ে
একঘেয়ে মমতায় ঘিরে ফেলে স্বপ্ন-স্বদেশ
বয়োজ্যেষ্ঠ বিভ্রম সূর্যালোকে মুগ্ধ মগ্ন হয়ে
গুটি গুটি মেঘের ছায়ায় পথে নামি আমিও আবার
Thursday, October 23, 2008
মৃত্তিকাপুরাণ
লাল চামড়ার ব্যাগে বয়স আর পুরনো শহর নিয়ে
ইটের ছায়াপথে কতদিন বলো হাঁটবে তুমি আর
ইতিহাসের ঝড়ের পরে শান্ত হয়েছে অনেক পুরণো নিঃশ্বাস
তারা আজ অন্ধকারে, মহাকালের পরম স্বজন
পুরানের এক ঝাঁপি ওরা একদিন খুলেছিল এখানেই
এই ফুটপাতের গহীন কষ্ট থেকে এখনও উথলে ওঠে
সেই পুরাণ, অপক্ক বকুল আর সোঁদা কাগজের ঘ্রাণ
সন্ধ্যার এই রেল, বিজলিবাতি, বাতাবিনেবু
ঝাউবাগানে দুলে দুলে হারিয়ে যাওয়া নাটাইছেঁড়া স্বপ্ন
সবই তো বাস্প হয়েছে ফিনাইলের ঘ্রাণের সাথে
তবু, পায়ের আওয়াজ তোমার বাতাসের ডানায় ভেসে
আজো ঠিক থমকে থাকে পুরনো সেই মাঠের শিয়রে
আমিতো দেখি, সবখানে শুধু পুরণো সৌম্য মিছিল
সার বেঁধে দাঁড়িয়েছে আত্মমগ্ন লাশের কাতারে
লোবাণের ঘ্রাণে উড়ে গেছে শৈশব, নিস্তব্ধতার কোলাহল
নির্জীব বিষণ্নতায় ঘরে ফিরছে যে নতমুখী সন্তান
আস্তিনে তার গহীন মাটির ঘ্রাণ, ভেজা, উষ্ণ
তবু ফের সকালের জানালায় পাখিরা আসছে উড়ে
দেখো মা! তোমার সবুজ আঁচলে সকালের রোদ এড়িয়ে
বাতাসের গভীর ঘ্রাণে উঠছে জেগে আশ্চর্য বিপুল জীবন...
ইটের ছায়াপথে কতদিন বলো হাঁটবে তুমি আর
ইতিহাসের ঝড়ের পরে শান্ত হয়েছে অনেক পুরণো নিঃশ্বাস
তারা আজ অন্ধকারে, মহাকালের পরম স্বজন
পুরানের এক ঝাঁপি ওরা একদিন খুলেছিল এখানেই
এই ফুটপাতের গহীন কষ্ট থেকে এখনও উথলে ওঠে
সেই পুরাণ, অপক্ক বকুল আর সোঁদা কাগজের ঘ্রাণ
সন্ধ্যার এই রেল, বিজলিবাতি, বাতাবিনেবু
ঝাউবাগানে দুলে দুলে হারিয়ে যাওয়া নাটাইছেঁড়া স্বপ্ন
সবই তো বাস্প হয়েছে ফিনাইলের ঘ্রাণের সাথে
তবু, পায়ের আওয়াজ তোমার বাতাসের ডানায় ভেসে
আজো ঠিক থমকে থাকে পুরনো সেই মাঠের শিয়রে
আমিতো দেখি, সবখানে শুধু পুরণো সৌম্য মিছিল
সার বেঁধে দাঁড়িয়েছে আত্মমগ্ন লাশের কাতারে
লোবাণের ঘ্রাণে উড়ে গেছে শৈশব, নিস্তব্ধতার কোলাহল
নির্জীব বিষণ্নতায় ঘরে ফিরছে যে নতমুখী সন্তান
আস্তিনে তার গহীন মাটির ঘ্রাণ, ভেজা, উষ্ণ
তবু ফের সকালের জানালায় পাখিরা আসছে উড়ে
দেখো মা! তোমার সবুজ আঁচলে সকালের রোদ এড়িয়ে
বাতাসের গভীর ঘ্রাণে উঠছে জেগে আশ্চর্য বিপুল জীবন...
নির্জনতার মানচিত্র
কষ্টগুলোকে বিনয়ী কনিষ্ঠের মতো কাছে ডাকো কেবলি
কারিগর আঙ্গুলগুলো রক্তাক্ত হয় তাতে,
রক্তাক্ত হয় তালিকাভুক্ত বিকেল, গন্ডদেশ, নিজস্ব স্বজন
হেমন্তের শহরে শহরে পায়ে হাঁটা বালিয়াড়ি পেরিয়ে যাও তুমি
ঘ্রাণ নাও তীব্রভাবে, নিকোটিন আর দুর্বোধ্য দ্রবণের
হয়তো দৃষ্টি আর কল্পনা একান্তে কাঁদছে এখনও, থেকে থেকে
তুমি আর তোমার শরীর- কথা হয় পরস্পর..
ঠিক আছে আরেকটু হাঁটা যাক...
তুমি ভাবো- আবেগের সোনালী চপ্পলেই অনায়াসে পৌঁছে যাবে
ইতিহাস-দর্শনের ছাইচাপা বিবর্ণ যাদুঘরে
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে পারবে মৃত্যুর প্রত্যন্ত ভীষণ দুর্গ প্রাকার
কিন্তু মানচিত্রে মরুদ্যান নেই, নেই ছায়ার শরবত
এখনও প্রয়াত শব্দস্রোত নিত্য ভাঙছে দ্যাখো চেতনার ব্যরিকেড
পাহাড়, নদী আর দুর্বোধ্য দুর্গম গুহাচিত্রে উপচে পড়ছে কাগজের কার্ণিশ
বলি কি, দরপত্র-হ্যান্ডব্যাগ রেখে জিরোতে হবে তোমাকে,
আঁচল আর অলসতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে পড় এখানেই,
ঘন এই প্রাচীন অশ্মত্থের দাওয়ায়
তারপর যদি গাছের পাতা চুঁইয়ে তীব্র ঘুম নামে, ঘুমিও ভীষণ
গ্রামজ রসদ সব বিলিয়ে দিয়ে বাতাসের মিনারে মিনারে
আমি অপেক্ষায় আছি তোমার বৃষ্টিমাখা তীব্র ঘুমের
স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে তারপর যদি ঘুম ভাঙে কোন লালচে নগরে
তবে অন্তহীন পথ-হাঁটার সুযোগ হবে আরেকবার
মৃত্যুর লাল উত্তাপে গ'লে যাওয়ার আগে
সে মহাযাত্রার আর কোন যাত্রাবিরতি নেই...
কারিগর আঙ্গুলগুলো রক্তাক্ত হয় তাতে,
রক্তাক্ত হয় তালিকাভুক্ত বিকেল, গন্ডদেশ, নিজস্ব স্বজন
হেমন্তের শহরে শহরে পায়ে হাঁটা বালিয়াড়ি পেরিয়ে যাও তুমি
ঘ্রাণ নাও তীব্রভাবে, নিকোটিন আর দুর্বোধ্য দ্রবণের
হয়তো দৃষ্টি আর কল্পনা একান্তে কাঁদছে এখনও, থেকে থেকে
তুমি আর তোমার শরীর- কথা হয় পরস্পর..
ঠিক আছে আরেকটু হাঁটা যাক...
তুমি ভাবো- আবেগের সোনালী চপ্পলেই অনায়াসে পৌঁছে যাবে
ইতিহাস-দর্শনের ছাইচাপা বিবর্ণ যাদুঘরে
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে পারবে মৃত্যুর প্রত্যন্ত ভীষণ দুর্গ প্রাকার
কিন্তু মানচিত্রে মরুদ্যান নেই, নেই ছায়ার শরবত
এখনও প্রয়াত শব্দস্রোত নিত্য ভাঙছে দ্যাখো চেতনার ব্যরিকেড
পাহাড়, নদী আর দুর্বোধ্য দুর্গম গুহাচিত্রে উপচে পড়ছে কাগজের কার্ণিশ
বলি কি, দরপত্র-হ্যান্ডব্যাগ রেখে জিরোতে হবে তোমাকে,
আঁচল আর অলসতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে পড় এখানেই,
ঘন এই প্রাচীন অশ্মত্থের দাওয়ায়
তারপর যদি গাছের পাতা চুঁইয়ে তীব্র ঘুম নামে, ঘুমিও ভীষণ
গ্রামজ রসদ সব বিলিয়ে দিয়ে বাতাসের মিনারে মিনারে
আমি অপেক্ষায় আছি তোমার বৃষ্টিমাখা তীব্র ঘুমের
স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে তারপর যদি ঘুম ভাঙে কোন লালচে নগরে
তবে অন্তহীন পথ-হাঁটার সুযোগ হবে আরেকবার
মৃত্যুর লাল উত্তাপে গ'লে যাওয়ার আগে
সে মহাযাত্রার আর কোন যাত্রাবিরতি নেই...
Subscribe to:
Posts (Atom)